ছাতক প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতকে সদ্য তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় রোকেয়া ম্যানশনস্থ ছাতক প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই-ইসলামপুর এলাকার মৃত শাহজাহানের মেয়ে শাহানা জাহান পলি।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ছাতক পৌরসভার বাগবাড়ী এলাকার মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে যুবলীগ নেতা দেলোয়ার মাহমুদ জুয়েলের সাথে আমার বিবাহ হয়। আমাদের সংসার জীবনে ফাহমিদ বক্স (১৬), তাহসিন বক্স (১৩) ও ফাইরুজ বক্সসহ ৩ সন্তান ছিলো। প্রথম সন্তান জন্মের পর থেকেই স্বামী ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আমার পরিবারের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা-পয়সা আনান। ৮ বছর সংসার ভালো কাটলেও পাওনা টাকা চাইতেই আমার উপর শুরু হয় অত্যাচার-নির্যাতন। এক সময় সে পরকীয়াসহ মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ে। গত কয়েক মাস পূর্বে আবারো বাবার বাড়ি থেকে ৩ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য সে চাপ সৃষ্টি করে। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত বছরের ২৬ নভেম্বর শারিরিকভাবে আমাকে নির্যাতন করে ঘর থেকে বের করে দেন। আমার ৩ সন্তানকে তাদের পিতার কাছে রেখে আমি আমার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেই। বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যার্থ হওয়ার আমার স্বামীকে তালাক প্রদান করি এবং তার বিরুদ্ধে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করি। এ মামলায় সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছে। জামিনে বের হয়ে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে আমি ও আমার আত্মীয়-স্বজনদের হুমকি দিচ্ছে। ২৭ জানুয়ারি সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ওসির মাধ্যমে জানতে পারি যে আমার ছোট ছেলে স্কুলছাত্র তাহসিন বক্স অপহরণ হয়েছে এবং আমি ও আমার অসুস্থ চাচা, উপজেলার জায়াবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর ইসলামসহ আত্মীয়-স্বজনদের নামে অভিযোগ করেন সাবেক স্বামী দেলোয়ার মাহমুদ জুয়েল। এমন খবর পেয়ে আমি এয়ারপোর্ট থানার ওসির সাথে দেখা করে বিষয়টি তুলে ধরি। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমি ও আমার আত্মীয়-স্বজনদের ফাঁসানোর জন্য ছেলেকে তার পিতা লুকিয়ে রেখে উদ্ধারের নামে মিথ্যা অপহরণ মামলা রেকর্ড করতে মরিয়া হয়ে উঠে। এরমধ্যে মীম সালমান নামের সমন্বয়ক দাবীদার আমার ছেলে তাহসিন বক্সকে ভাগ্না দাবি করে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছে। অথচ তাকে আমি দেখিনি, চিনিওনা। আমি নিশ্চিত ছেলেকে আমার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ও তার উপর দায়ের করা মামলা তুলে আনতে সে নিজেই ছেলেকে অজ্ঞাতস্থানে জোরপুর্বক আটকে রেখে মিথ্যা অপহরণ মামলার পায়তারা চালাচ্ছে। স্কুল শিক্ষক পরিচয় দিয়ে রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে আমার এক চাচার মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে আমাকে ও আমার চাচাকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজনরা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।
সন্তানদের ফেরত পেতে রোববার (৯ ফেব্রুয়ারিত) সুনামগঞ্জ আদালতে আশ্রয় গ্রহণ করেছি। আদালত সমন জারি করে ১০দিনের মধ্যে ৩ সন্তানদের নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য দিলোয়ার মাহমুদ জুয়েলকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার তালাকপ্রাপ্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ছেলের সন্ধান পাওয়া যাবে। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই এবং বাকী ২ সন্তান ফাহমিদ বক্স ও ফাইরুজ বক্সও তার কাছে নিরাপদ নয়। আমার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী একজন মুখোশধারী শয়তান। তার আচরণে শয়তানও লজ্জা পাবে। আমার উপর প্রতিশোধ নিতে আমার ছেলে তাহসিন বক্সকে হত্যার মতো জঘন্য কাজও করতে পারে। আমার ছেলেকে উদ্ধার করার পর জিজ্ঞাসাবাদ করলেই যুবলীগ নেতা দেলোয়ার মাহমুদ জুয়েল বক্সের সকল কু-কর্ম বেরিয়ে আসবে।
Leave a Reply